প্রবাসীদের সর্বোচ্চ মজুরি দেয় সিঙ্গাপুর

496

বসবাস ও কাজের পরিবেশের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ দেশের তালিকায় চতুর্থবারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এশিয়ার সিঙ্গাপুর। একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের সবচেয়ে বেশি মজুরি দেয়ার ক্ষেত্রে দেশটি বিশ্বে পাঁচ নম্বরে রয়েছে বলে ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি পরিচালিত সর্বশেষ বার্ষিক এক্সপ্যাট এক্সপ্লোরার রিপোর্টে উঠে এসেছে।

জরিপে বলা হয়েছে, প্রবাসী শ্রমিকদের সবচেয়ে বেশি মজুরি দেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশের তালিকায় রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও চীন। প্রবাসী শ্রমিকদের বৈশ্বিক গড় মজুরি ২১ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অন্য দেশের তুলনায় গড় মজুরির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পায় সুইজারল্যান্ডের প্রবাসী শ্রমিকরা।

দেশটিতে থাকা প্রবাসী শ্রমিকরা বছরে গড় মজুরি পান ২ লাখ ২ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীদের বসবাস ও কাজের নিরাপদ দেশের তালিকায় দেশটি অষ্টম স্থানে রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ 

উত্তাপ ছড়িয়েই যাচ্ছেন পরী দেখুন ছবিতে

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আয়ারল্যান্ড সিরিজের চূড়ান্ত সূচি

এ বছরই স্মার্টকার্ড পাবেন সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা

অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী শ্রমিকদের বছরে গড় আয় ১ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলার, যা বৈশ্বিক গড় মজুরির চেয়ে ৫৬ হাজার মার্কিন ডলার বেশি। এছাড়া জরিপে নিরাপদ অর্থনীতির তালিকায় সিঙ্গাপুর তৃতীয়, পরিবারের ক্ষেত্রে পঞ্চম ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

এইচএসবিসির জরিপে অংশ নেয়া মোট ২২ হাজার ৩১৮ জন প্রবাসী শ্রমিকের মধ্যে ৫০০ জন রয়েছে সিঙ্গাপুরে। তাদের প্রায় ৪৫ শতাংশই জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে কাজ করে কর্মক্ষেত্রে তারা সফলতা পেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৩৮ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, দেশটিতে কাজ করে তারা ভালো উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

অন্যদিকে বিশ্বে নারী-পুরুষের সমতা ও নিরাপদ পরিবারের ক্ষেত্রে প্রথম স্থানে রয়েছে সুইডেন। আর অভিজ্ঞতা ক্যাটাগরিতে নিউজিল্যান্ড, স্পেন ও তাইওয়ান যৌথভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

আরো পড়ুনঃ 

এ বছরই স্মার্টকার্ড পাবেন সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা

সূত্র জানায়, ৩ থেকে ৯ মার্চ ইসির একটি উচ্চ পর‌্যায়ের টিম সিঙ্গাপুর ঘুরে এসে কার্যক্রম হাতে নেওয়ার জন্য বেশকিছু সুপারিশ করেছে। আর সে ভিত্তিতেই কার‌্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ওই টিম সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস, সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্ট অথরিটি ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবনাটি প্রণয়ন করে।

এতে বলা হয়েছে- সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের প্রকৃত সংখ্যা জানা না গেলেও তা একলাখের বেশি নয়। আর এজন্য তাদের তথ্য নিয়ে দেশ থেকে তদন্তের পর এনআইডি ছাপিয়ে সিঙ্গাপুরে গিয়ে বিতরণের জন্য ছয় মাস সময় লাগবে।

কাজটি করার জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিঙ্গাপুরের আইন। তারা একমাসের বেশি ভিসা দেয় না, বিধায় কয়েক ধাপে কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে কাজটি সম্পন্ন করার পক্ষে ইসি সচিব সচিবালয়।

আরো পড়ুনঃ

বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার ভয়ে পথ হারালো মমতার হেলিকপ্টার

নুসরাত রাফির খাতায় হুজুরের লালসার বর্ণনা

‘হুজুরে বলছে, মাকে এইসব বললে একেবারে মাইরা ফালাবে!’

এক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ জনের এক একটি টিম ২১ দিন করে সিঙ্গাপুর অবস্থান করে কার‌্যক্রম চালাবে। এজন্য সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকও। ব্যাংকটি এ কার্যক্রম চালানোর জন্য তাদের বুথে অবস্থিত জায়গায় ইসিকে বুথ স্থাপনের জন্য সম্মতি দিয়েছে। এছাড়া সিটি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকের স্পেসও ব্যবহার করা হতে পারে।

ইসি সচিবালয়ের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় জনবল, সময়সীমা উল্লেখ করে হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রথমে সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। ভোটার কার‌্যক্রম ও এনআইডি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, ক্যামেরা, আইরিশ নেওয়ার মেশিন, সিগন্যাচার প্যাড, ইত্যাদি কিট নেওয়ার বিষয়টিও দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

ইসি কর্মকর্তাদের থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাবনায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাড়া বাড়িতে বা হোটেলে রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পুরো কার্যক্রমটির প্রচারণার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সিঙ্গপুর প্রবাসীদের ভোটার করে নেওয়া এবং সে দেশেই এনআইডি সরবরাহের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। এজন্য একটি পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। এপ্রিলেই কাজটি শুরুর একটি পরিকল্পনাও ছিল। সেভাবেই সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কমিশনের অনুমোদন পেলেই এখন কাজটি শুরু হবে। আশাকরি এবছর সিঙ্গাপুর বসেই তারা এনআইডি পাবেন। দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের স্মার্টকার্ড বা এনআইডি সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে প্রবাসীদের সংখ্যা এক লাখের কম। তাই ছয় মাসের বেশি সময় আমাদের লাগবে না। এরপর মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এ কার‌্যক্রম চালানো হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর ২০১৮ সালে এ উদ্যোগ হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর কয়েক দফায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করে সিঙ্গাপুরকেই প্রথম হিসেবে বেছে নেয় ইসি।

এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দেশে এসে প্রবাসীদের ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন, সম্পত্তি ক্রয়সহ নানা প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভোগান্তি দূর হবে বলে মনে করেন ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এই এনআইডি না থাকার কারণে দেশে এসে তাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেটা যাতে না হয়, সেজন্য এমন উদ্যোগ নিয়েছি আমরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here