ভূত সেজে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার

2763

এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে ”ভূতবেশী” এক যুবক।

মাস দেড়েক ধরে নানাভাবে উত্যক্ত করার পরে ওই যুবক রাতের অন্ধকারে মুখে, গায়ে কালি আর পাউডার মেখে ওই নারীর বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারীর স্বামী।

প্রথমে যুবকটি পালিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে পরে গ্রেপ্তার করে ধর্ষণের প্রচেষ্টার অভিযোগ এনেছে। আদালত তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায়।

অভিযোগকারীর দাবি, কেউ তার স্ত্রীকে মাস দেড়েক ধরেই উত্যক্ত করছিল। কিন্তু তাকে দেখা যাচ্ছিল না। ওই নারীর স্বামী যখন কাজে ঘরের বাইরে থাকেন, সেই সময়েই কখনও বাড়ির ছাদে ঢিল মারছিল কেউ – কখনও জানালা দিয়ে চুল টেনে বা ঘুমানোর সময়ে পায়ে কাঠি দিয়ে সুড়সুড়ি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল উত্যক্তকারী।

কিন্তু গত রবিবার রাতে ওই ব্যক্তি ঢুকে পড়ে একেবারে বাড়ির ভেতরেই এবং এরপর ওই নারীকে আক্রমণ করে তার গায়ে হাত দেয় বলে অভিযোগ। ওই সময় সাহস করে আক্রমণকারীকে ধরে ফেলেন ওই নারী আর একই সঙ্গে তিনি ঘুমন্ত স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে তোলেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানান তার স্বামী।

তিনি জানান, মুখে-গায়ে কালিঝুলি আর পাউডার মেখে আসা ওই যুবককে মারধর করতেই আসল চেহারা বেরিয়ে পড়ে তার।

ওই নারীর স্বামী বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “ভূতের মত সাজা ওই লোকটার গায়ে কালি আর পাউডার মাখা ছিল। মারধরের ফলে সেগুলো কিছুটা মুছে যেতেই দেখি পাশের বাড়ির ছেলে! বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এতদিন ধরে সে-ই আমার স্ত্রীকে উত্যক্ত করছিল।”

ওই যুবককে মারধরের সময়েই তার পরিবারের লোকেরাও সেখানে চলে আসে। আর সুযোগ বুঝে চম্পট দেয় ভূতবেশী ওই উত্যক্তকারী।

ভূত-প্রেত বলে যে কিছুই হয় না, পুরোটাই কল্পনা – সেকথা আজ প্রমাণিত। তবুও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যেমন এখনও ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করেন, তেমনই শিশুদেরও অনেকে ভূতের ভয় দেখিয়ে থাকেন।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নির্যাতিতা নারীর স্বামী বলছিলেন, মাস দেড়েক আগে তার বাবার মৃত্যুর পর থেকেই বাড়িতে ভূতুড়ে কাণ্ড শুরু হয়। কখনও বাড়ির চালে ঢিল পড়তে থাকে, কখনও জানলার পাশে কেউ তার ঘুমন্ত স্ত্রীর পায়ে কাঠি দিয়ে সুড়সুড়ি দেয় বা চুল টেনে দেয়। তাই পরিবারটির দৃঢ় ধারণা জন্মেছিল যে ভূতে এইসব কাজ করছে।

“সদ্য বাবা মারা গেছেন, তাই স্ত্রী স্বাভাবিকভাবেই ভয়ে থাকত। মনে করত ভূত এসেছে। সব ঘটনাগুলোই হচ্ছিল যখন আমি কাজে বাইরে যাই, সেই সময়ে। রবিবার ঘটনাচক্রে বাজার থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমি। স্ত্রী বাচ্চাদুটোকে রাতের খাবার দিচ্ছিল। তখনই একটা বাচ্চা দেখতে পায় যে ছাদ থেকে কে একটা নামছে,” বলছিলেন নির্যাতিতার স্বামী।

ভদ্রলোক বলেন, “ভূত, ভূত চিৎকারেও আমার ঘুম ভাঙ্গেনি। ততক্ষণে ওই যুবক লাফ দিয়ে পড়ে আমার স্ত্রীকে চেপে ধরেছে। মুখ বন্ধ রাখতে হুমকিও দেয়। তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কোনওমতে আমাকে ধাক্কা দেয় স্ত্রী। আমি ঘুম ভেঙ্গে উঠেই ওই কাণ্ড দেখে দুজনে মিলে চেপে ধরি ওকে।

“মারধর আর চেঁচামেচির মধ্যেই ওর গায়ের আর মুখের পাউডার উঠে যেতেই দেখি একদম গায়ে লাগানো বাড়ির ১৯ বছরের ছেলে!”

কাটোয়া থানার এক অফিসার জানান যে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রচেষ্টা, অপরাধ সংঘটিত করার প্রচেষ্টা আর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

জেরায় সে বলছে যে বাড়িতে অশান্তির জেরেই সে নাকি পাশের বাড়িতে গিয়েছিল।

কিন্তু কালিঝুলি আর পাউডার মেখে কেন ভূতের সাজে সেজেছিল ওই যুবক, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও জবাব এখনও তদন্তকারীদের সে দিতে পারেনি।

প্রাথমিক মারধরের মধ্যেই হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক। কিন্তু পরে সে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

অভিযুক্তের পরিবার তাকে বিষয়টা মিটিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান নির্যাতিতার স্বামী। কিন্তু তিনি রাজী হননি।

“আজ আমার স্ত্রীর সঙ্গে এরকম করেছে, এ তো কাল অন্য মহিলাদের সঙ্গেও এমনটা করবে। একে কোনওমতেই ছাড়া যাবে না। এমন শাস্তি হওয়া উচিত যাতে আর জীবনে কোনও মেয়ের দিকে খারাপ চোখে না তাকায়।”

ধর্ষণের প্রচেষ্টার মামলায় কোনও নির্যাতিতার পরিচয় কোনওভাবেই যাতে প্রকাশ না পায়, সে ব্যাপারে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সেজন্য ওই নারীর স্বামীর নাম ও বাড়ির এলাকা গোপন রাখা হল।

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here