মাদ্রাসার ছাদে দাঁড়িয়ে নুসরাত হত্যার বর্ণনা দিলেন মণি

468

শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলো না নুসরাত জাহান রাফিকে। মা-বাবার আর্তি, সতীর্থসহ সকলের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।

নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের জনগণ। সর্বত্র উঠেছে বিচারের দাবি।

এদিকে আজ শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া রিমান্ডে থাকা সহপাঠী কামরুন্নাহার ওরফে মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল তাকে নিয়ে সোনাগাজী পৌর শহরের মানিক মিয়া প্লাজায় একটি বোরকার দোকানে যায়।

আরো পড়ুনঃ

নুসরাত রাফির খাতায় হুজুরের লালসার বর্ণনা

‘হুজুরে বলছে, মাকে এইসব বললে একেবারে মাইরা ফালাবে!’

সেখানে দোকান মালিকের সঙ্গে বোরকা কেনার বিষয়ে কথা বলা হয়। পরে পিবিআই দলটি সোনাগাজী মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

সেখানে নুসরাতকে কীভাবে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়, তার বর্ণনা দেন কামরুন্নাহার মণি।

নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই’র পরিদর্শক মো. শাহ আলম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, নুসরাত হত্যায় সরাসরি জড়িত মণিকে বুধবার ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার মণিকে নিয়ে মাদ্রাসা ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে।

পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, ‘মণির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া পুরুষদের গায়ে থাকা বোরকাগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা।

পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোরও পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে মারা যায় ‘প্রতিবাদী’ নুসরাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here