ভারতীয় ২ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ২ পাইলট আটক: পাকিস্তান (ভিডিও)

693

নিজস্ব আকাশসীমায় দুই ভারতীয় বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বিবৃতিতে এ দাবি করেছেন। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার সকালে কমপক্ষে তিন পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এসময় ভারতীয় যুদ্ধবিমান তারা করলে সেগুলো পাকিস্তানে ফিরে যায়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইটারে বলেন, লাইন অব কন্ট্রোল পেরিয়ে পাকিস্তানি আকাশসীমায় প্রবেশ করলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর দুটি বিমানকে ধ্বংস করে পাকিস্তান বিমানবাহিনী।

এর মধ্যে একটি ভারতশাসিত কাশ্মীরে ও অপরটি পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরে বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখান থেকে দুই ভারতীয় পাইলটকে আটক করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
এদিকে ভারতের একটি বিমান বিধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে কাশ্মীর থেকে।

সেখানে নিহত হয়েছেন ২ পাইলটসহ ৩ জন। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি এখনো। ভারত দাবি করেছে, পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ ফাইটার জেট ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল গফুর এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আজকের আক্রমণে কোনো এফ-১৬ বিমান ব্যবহার করা হয়নি।

 

আরো পড়ুনঃ

পাকিস্তানকে ভেঙে ৩ টুকরো করার পরামর্শ রামদেবের, বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেয়ার আহ্বান

পালওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তানকে ভেঙে তিন টুকরো করার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের যোগগুরু বাবা রামদেব। এ জন্য তিনি পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের পরামর্শ দেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বলেছেন, এটা হবে ভারত সরকারের প্রতিশোধ। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।

রামদেব মঙ্গলবার বলেন, পাকিস্তানকে একটি শিক্ষা দেয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ করার জন্য এটা হলো ভারতের জন্য উত্তম সময়। তিনি আরো বলেন, বেলুচিস্তানে স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করছে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দেয়া উচিত ভারতের। একই সঙ্গে তাদেরকে অস্ত্র দিয়েও সহায়তা করা উচিত। বেলুচিস্তানকে স্বাধীন করতে প্রতিটি পদক্ষেপে সাহায্য করা উচিত ভারতের।

এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও সন্ত্রাসীদের একটি উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। এ জন্য প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত, পাকিস্তানকে ভেঙে তিন টুকরো করে দেয়া। গত বৃহস্পতিবার কাশ্মিরের পালওয়ামায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। এতে ভারতের কমপক্ষে ৪০ সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন।

হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তান ভিত্তিক সন্ত্রাসী দল জৈশ ই মোহাম্মদ। এ বিষয়ে রামদেব বলেন, এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ফলে ৫০ হাজারের বেশি সেনা ও বেসামরিক মানুষ তাাদের প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানকে তাই একটি শিক্ষা এখন আমাদের দিতে হবে। আমাদেরকে একটি যুদ্ধ করতেই হবে। প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহানোর চেয়ে একটি যুদ্ধ করা ভাল।

আর তার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে একটি শিক্ষা দেয়া উচিত, যাতে তারা আগামী ৫০ বছরের মধ্যে আর উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা না রাখে। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিক কাশ্মিরের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। পাকিস্তান দখলীকৃত কাশ্মিরে সব সন্ত্রাসীর ক্যাম্প ধ্বংস করে দেয়া উচিত। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিদ্রোহীদের সমর্থন দেয়ার উচিত ভারতের বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটা করতে হবে এ জন্য যে, যাতে তারা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ

ভারতীয় দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ

ভারতীয় বিমান বাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান মাঝ আকাশে সংঘর্ষের পর বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশ কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে সূর্যকিরণ এরাবেটিকস টিমের ওই দুটি বিমানের তিনজন পাইলটের মধ্যে একজন মারা গেছেন। তবে বিমান বিধ্বস্তে অপর দুই পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

এনডিটিভি বলছে, উত্তর বেঙ্গালুরুর ইয়েলাহানকা বিমান ঘাঁটিতে অনুশীলনের সময় বিমান দুটির সংঘর্ষ হয়। একদিন পরই দেশটির বিমান বাহিনীর আনুষ্ঠানিক মেগা মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বেঙ্গালুরুতে।

বেঙ্গালুরু পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক এমএন রেড্ডি বলেন, বিমান দু’টিতে তিনজন পাইলট ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। অপর দু’জন আহত হলেও তারা শঙ্কামুক্ত।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই দুটি যুদ্ধবিমান কসরতের সময় মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে প্রায় কাছাকাছি স্থানেই বিমান দুটি বিধ্বস্ত হয়। অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি থেকে কালো ধোঁয়া উড়ছে।

বিমান বিধ্বস্তের পর ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিমান দুটি বিধ্বস্ত হওয়ার ইয়েলাহানকা বিমান ঘাঁটির পথে রওয়ানা হয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বেঙ্গালুরুতেই ছিলেন তিনি। সীতারামন বলেন, আমি দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। তবে এ ব্যাপারে আর কোনো তথ্য দেননি তিনি।

দেশটির বিমানবাহিনী বেঙ্গালুরুতে এরো ইন্ডিয়া-২০১৯ নামে আগামী ২০ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি মহড়া চালাবে। হাজার হাজার মানুষ এই মহড়া দেখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here